এখনকার সময়ে অত্যধিক মোবাইলে ছবি তোলা, ভিডিও রাখা, ভিডিও রেকর্ডিং করা ইত্যাদি কাজকর্মের ফলে ফোনের মেমোরি অল্প সময়ে সবাইকার ফুল হয়ে যায়।
সমস্যায় পড়তে হয় তখন খুব ।
এমনকি ফোনের মেমোরি ফুল হয়ে গেলে আপনার এন্ড্রয়েড ফোনের সমস্ত ফাংশন সঠিকভাবে কাজও করেনা।
অনেক সময় ফোন হ্যাং হয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকে ।
অবশ্যই আপনি নতুন একটি মেমোরি কার্ড কিনে এ সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
কিন্তু তার জন্য খরচ হয় এবং কিছু কিছু ফোন আছে যেগুলিতে শুধুমাত্র দুটো সিম স্লট থাকে।
তার মধ্যে একটা সিম স্লট এ মেমোরি কার্ড ব্যবহার করলে শুধুমাত্র আরেকটি সিম কার্ড ব্যবহার করতে পারবেন ।
[bctt tweet=”ফোনের মেমোরি শেষ হয়ে যাওয়া থেকে মুক্তি ! জেনেনিন পাঁচটি শ্রেষ্ঠ ক্লাউড স্টোরেজ কোনগুলি ?” username=”shresthoblog”]আরও পড়ুন : পুরানো হোক বা নতুন, কি করে বুঝবেন আপনার ফোন আসল না ডুপ্লিকেট ?
অর্থাৎ মেমোরি কার্ডের জন্য একটা সিম আপনাকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে।
যাদের মেমোরি কার্ড সম্পর্কিত বা ফোনের মেমোরি সম্পর্কিত এই সমস্যাগুলো থেকেই থাকে তাদের জন্য এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি হল ক্লাউড স্টোরেজ।

Table of Contents
ক্লাউড স্টোরেজ হল এমন একটি পদ্ধতি যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফাইল সেভ করে রাখতে পারবেন কোনো ক্লাউড প্রোভাইডারের নিজস্ব সার্ভারে।
যেটি হয়তো কোন অত্যন্ত দূরবর্তী এলাকায় স্থাপন করা রয়েছে ।
অর্থাৎ কোন ক্লাউড স্টোরেজ প্রোভাইডার এর হেড অফিস অথবা তাদের সার্ভার থাকতেই পারে ইউএসএতে।
অথচ আপনি বিশ্বের যে কোন জায়গা থেকেই তাদের হার্ডওয়ারে আপনার ডাটা সংরক্ষণ করে রাখতে পারবেন।
এবং প্রয়োজনে ইন্টারনেটের সাহায্যে যেকোনো ডিভাইস থেকে আপনার প্রয়োজনীয় ডাটা অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
আপনার জন্য শ্রেষ্ঠ ক্লাউড স্টোরেজ অপশন হচ্ছে সেগুলি যেগুলিতে আপনি অতি সহজেই আপনার ফটো ভিডিও সেভ করে রাখতে পারবেন এবং যেকোনো ডিভাইস থেকে প্রয়োজনে সেগুলি অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
অর্থাৎ ডাউনলোড করতে পারবেন এবং আপনার কাজে লাগাতে পারবেন।

শ্রেষ্ঠ ক্লাউড স্টোরেজের অপশন বলতে গেলে সর্বপ্রথমে যে ক্লাউড স্টোরেজের কথা মনে আছে তাহলে Google Drive!
এটি গুগলের সার্ভিস।
আপনি যদি গুগলের যে কোন প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন অর্থাৎ ইমেইল অথবা তাদের গুগল অ্যাকাউন্ট থাকে অথবা আপনার গুগোল অ্যাকাউন্ট থেকে থাকে তাহলে আপনি গুগল ড্রাইভের সুবিধা অলরেডি নিয়ে চলেছেন।
Google Drive 15 জিবি পর্যন্ত ফ্রি স্পেস দেয় প্রত্যেক ইউজারকে ।
আর এই 15 জিবি স্পেস এর মধ্যে কোন লিমিটেশন নেই। এই 15 জিবি মধ্যে আপনি আনলিমিটেড হাই কোয়ালিটি ফটো, ভিডিও আপলোড করে রাখতে পারেন।
এবং এই 15 জিবি থেকে বেশি প্রয়োজন হলে আপনার আপনি গুগল ড্রাইভের Paid সার্ভিসে গিয়ে অতি সহজেই এর মেমোরি বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
তবে আমরা সাজেস্ট করবো এখনি Paid সার্ভিসের দিকে না গিয়ে আপনি আগে তাদের ফ্রী সার্ভিসটি উপভোগ করুন। এবং দেখুন এটি আপনার প্রয়োজনে কতটা লাগছে।
গুগোল ড্রাইভ ডেস্কটপ এবং মোবাইল দুটোর জন্যই রেখেছে তৈরি করে রেখেছে তাদের অ্যাপ্লিকেশন ।
যার সাহায্যে আপনি অতি সহজেই আপলোড এবং ডাউনলোড করতে পারবেন।
আমরা অত্যাধিক পরিমাণে গুগল ড্রাইভ ব্যবহার করি এবং এখনো পর্যন্ত কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি।
আপনাদেরকে প্রথমে গুগল ড্রাইভের কথা বলার অন্যতম একটি কারণ হলো এটির প্রোভাইডার গুগল নিজেই।
ফলে আপনার ডেটা লিক হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। গুগল বলে আপনার একাউন্টে রাখা কোন ছবি বা ভিডিও কোন গুগোল এমপ্লয়ীও দেখতে পাবেন না।
অর্থাৎ এটি টোটালি সেফ এবং এনক্রিপ্টেড।

পরবর্তী যে ক্লাউড স্টোরেজ প্রোভাইডার কথা বলব সেটিও অত্যন্ত জনপ্রিয়।
এর নাম হল ড্রপবক্স ।
এর সাহায্যে আপনি অ্যাকাউন্ট খুললেই পেয়ে যাবেন 2 GB ফ্রি স্টোরেজ। এখানে আপনি আপনার ফটো ভিডিও অতি সহজেই আপলোড করে রাখতে পারবেন।
এবং প্রয়োজনে যে কোন ডিভাইস থেকে আপনার অ্যাকাউন্ট ওপেন করে সেগুলিকে ডাউনলোড করে নিতে পারবেন বা অ্যাক্সেস করতে পারবেন।
ড্রপবক্স এর নিজস্ব অ্যাপ্লিকেশন রয়েছে মোবাইল এবং ডেক্সটপ দুটোর জন্যই।
যার সাহায্যে অতিসহজে আপনি আপনার ফাইল অ্যাক্সেস করতে পারবেন যা এককথায় অনবদ্য।

মাইক্রোসফট ওয়ান ড্রাইভ গুগলের গুগল ড্রাইভের মতোই Microsoft-এর এই ওয়ানড্রাইভ তাদের অনেক অ্যাপ্লিকেশন এর সাথে যুক্ত রয়েছে।
এমনকি এটা সরাসরি উইন্ডোজ টেন এর সাথে আপনি ব্যবহার করতে পারবেন।
অ্যাকাউন্ট খুললেই আপনি 5 GB ফ্রী স্পেস পেয়ে যাবেন। এবং খুব অল্প টাকাতেই সেটাকে আপনি 50 জিবি পর্যন্ত বাড়িয়ে নিতে পারবেন।
ওয়ান ড্রাইভে আপনার ফাইল আপলোড এবং প্রয়োজনে তা অ্যাক্সেস করা খুবই সহজ।

পরবর্তী যে ক্লাউড স্টোরেজের কথা আপনাদের বলব তার নাম হলো মেগা ।
প্রকৃত অর্থেই এই ক্লাউড স্টোরেজ অ্যাকাউন্ট খুললেই আপনাকে মেগা মেমোরি মেগা স্টোরেজ দিয়ে দেয়।
অর্থাৎ অ্যাকাউন্ট খুললেই আপনি পাবেন 50 জিবি স্টোরেজ। যেখানে আপনি আপনার প্রয়োজনীয় ফটো ভিডিও আপলোড করে রেখে দিতে পারবেন এবং প্রয়োজনে যে কোনো সময় এ দিকে অ্যাক্সেস করতে পারবেন সেগুলিকে ।
আমাদের মনে হয় এই 50 GB স্টোরেজ বেশিরভাগ ইউজারদের জন্যই যথেষ্ট।
মেগা তার ইউজারদের প্রাইভেসির ওপর যথেষ্ট গুরুত্ব আরোপ করে এবং তারা এটা নিশ্চিত করেছে তারা তাদের সমস্ত যেসব ইউজাররা তাদের যেসব ফাইল আপলোড করে তা প্রথমে এনক্রিপটেড করা হয় এবং তারপর মেগা তে আপলোড করা হয়।
তাই মেগার পক্ষেও জানা সম্ভব নয় আপনি কোনটা আপলোড করে রাখছেন। যা এক কথায় অসাধারণ। তারা এমন কি সোর্সকোড টাও যেকোনো কারো চেক করার জন্য এভেলেবেল করে রেখেছে।
যে কোন এক্সপার্ট এটাকে চেক করে বলে দিতে পারবে যে এর মধ্যে কোন ভঙ্গুরতা আছে কিনা। অর্থাৎ কেউ এটা কি সহজে হ্যাক করে ফেলতে পারবে কিনা।

এ পরবর্তী যে ক্লাউড স্টোরেজ প্রভাইডারের কথা আপনাদের বলব তার নাম হলো বক্স ।
যদিও বক্স ব্যবসা এবং কোন টিম ওয়ার্কের প্রতি বেশিমাত্রায় প্রয়োজনীয় কিন্তু ইন্ডিভিজুয়াল ইউজারদের জন্য তারা অসাধারণ কাজ করে এখানে অ্যাকাউন্ট খুললেই আপনি পেয়ে যাবেন 10 জিবি ফ্রি স্টোরেজ এবং 250 এমবি পর্যন্ত ফাইল সাইজ আপলোড করতে পারবেন বিনামূল্যে।
আপনই কোন ক্লাউড স্টোরেজ সার্ভিস ব্যবহার করেন তা নীচে কমেন্ট করে আমাদের অবশ্যই জানাবেন !
আমাদের সমস্ত আপডেট সরাসরি পেতে Facebook , Twitter , Instagram ও YouTube -এ তে আমাদের সঙ্গে থাকুন ও শ্রেষ্ঠ থাকুন !