• Home
  • Make Money Online

স্টুডেন্ট অবস্থায় টাকা ইনকাম করার শ্রেষ্ঠ পদ্ধতি, Earn Money Online as a Student

ছাত্র জীবন বা স্টুডেন্ট লাইফ (Student Life) হল জীবনের এক অতি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে পড়াশোনা করাটা অত্যাধিক প্রয়োজন। তবে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনি যদি কিছু কাজ করে অনলাইনে টাকা ইনকাম (online taka income) করতে পারেন। তাহলে তার তুলনায় ভালো কিছু হতে পারে না।

আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সেটা করাই উচিত। স্বাবলম্বী হয়ে নিজেই টাকা ইনকাম করে নিজের শখ মেটানোর বা তার সাথে আপনার ইচ্ছা গুলোকে পূরণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। 

আজকে বেশ কয়েকটি পদ্ধতির ব্যাপারে আপনাকে জানাবো যার সাহায্যে স্টুডেন্ট অবস্থাতেই টাকা ইনকাম করা যায় (student der taka income korar poddhoti)।

পড়াশোনায় ফাঁকি না মেরে পড়াশোনা ভালো ভাবেই চালানোর পাশাপাশি এই কাজগুলো করে আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

Table of Contents

কেন স্টুডেন্ট দের টাকা ইনকাম করা প্রয়োজন?  

ছাত্রজীবনে সকলের অবস্থা সমান থাকে না। কারোর কাছে সমস্ত সুযোগ সুবিধা থাকে। আবার কাউকে হয়তো সমস্ত রকমের সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে হয়। 

এই পরিস্থিতিতে নিজের প্রয়োজন মেটাতে নিজে স্বাবলম্বী হয়ে উঠে টাকা ইনকাম করা একটা গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হয়ে দাঁড়ায়।

আর বর্তমান পরিস্থিতিতে সবার কাছেই স্মার্টফোন এবং হাইস্পিড ইন্টারনেট কানেকশন তো রয়েইছে। 

আবার অনেকের কাছেই ল্যাপটপ বা কম্পিউটারও আছে। আজকে যে পদ্ধতি গুলোর ব্যাপারে আপনাকে বলবো।

সেই পদ্ধতি গুলো মেনে চলে আপনি ঘরে বসেই লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

এর আগে আপনাদের জানিয়েছিলাম কিভাবে আপনি ফ্রিল্যান্সিং করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এই বিষয় গুলি জানার সাথে সাথেই অবশ্যই ফ্রিল্যান্সিং বিষয়েও জেনে রাখুন। 

এই বিষয়ে সম্পর্কে একটা কথা অবশ্যই খেয়াল রাখুন-

ছাত্রজীবনে টাকা ইনকাম করা অনেকের কাছে প্রয়োজন হতে পারে। আবার অনেকের কাছে সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন।

সে ক্ষেত্রে তিনি হয়তো স্বাবলম্বী হওয়ার জন্যই সেই কাজ শুরু করছেন।

দুজনের ক্ষেত্রেই অনুরোধ করবো ছাত্রজীবনে পড়াশোনাটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

টাকা ইনকাম তো করবেনই কিন্তু তার সাথে পড়াশোনায় যেন কোনো রকম ক্ষতি না হয়। সে দিকে অবশ্যই খেয়াল রাখুন। 

এই সমস্ত পদ্ধতিগুলোর মেনে চলে টাকা ইনকাম করুন। তার সাথে সাথে পড়াশোনার প্রতি মনোযোগ দিন ও যত্নশীল হন।

স্টুডেন্ট হয়েও কোন কোন পদ্ধতি অবলম্বন করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন?

নিম্নলিখিত পদ্ধতি গুলি মেনে চলে খুব ভালোভাবেই স্টুডেন্ট অবস্থাতেও টাকা ইনকাম করা যাবে !

ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে টাকা ইনকাম-

এই পদ্ধতি অবলম্বন করে তৎক্ষণাৎ টাকা ইনকাম করা সম্ভব হয়তো নাও হতে পারে। কিন্তু আপনার যদি ট্যালেন্ট থাকে।

তাহলে সেই ট্যালেন্ট এর সাহায্যে আপনি লাখ লাখ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

পাশাপাশি নিজেকে একটি ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতেও পারবেন।

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা ইনকাম করতে হয় এই বিষয়ে বিস্তারিত অবশ্যই আমাদের শ্রেষ্ঠ গাইড থেকে জেনেনিন। তারপরে আপনার একটি চ্যানেল তৈরি করে নিন।

তারই সাথে জেনেনিন YouTuber-দের জন্য শ্রেষ্ঠ বাজেট DSLR কোনটিকীভাবে ইউটিউবে দ্রুত সফলতা পাবেন ?

ব্লগ শুরু করে টাকা ইনকাম

একটি ব্লগ শুরু করুন (Start a blog)। বর্তমান সময়ে ব্লগ তৈরি করা খুবই সহজ। আপনার শখ বা আপনার প্যাশন যে বিষয়ের প্রতি।

সেই বিষয় নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করার পাশাপাশি আপনার একটি ব্লগ তৈরি করে ফেলতে পারেন। 

আপনি যদি ইউটিউব এবং ব্লগ দুটো কেই একসাথে চালিয়ে যেতে পারেন তাহলে তো খুবই ভালো ব্যাপার।

না হলে এই দুটোর মধ্যে যেটার প্রতি আপনি স্বচ্ছন্দ বেশি। সেটাই শুরু করুন।

দেখবেন ধীরে ধীরে আপনার প্যাশনকেই আপনি আপনার প্রফেশন বানিয়ে নিতে পারবেন।

ধীরে ধীরে সেগুলো থেকে ইনকাম শুরু হবে। 

আমরা এর আগেই জানিয়েছি কিভাবে আপনি বিনামূল্যে ব্লগ শুরু করতে পারবেন। নিঃসন্দেহে সেটাও দেখে নিন। আপনার কাছে যদি বাজেট না থাকে অথচ খুব সুন্দর একটি আইডিয়া রয়েছে।

তাহলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব সহজেই বিনামূল্যে আপনার ব্লগ তৈরি করে ফেলুন। আপনার আইডিয়া কে বাস্তবায়িত করুন। সেটা থেকে ইনকাম করতে থাকুন পড়াশোনার পাশাপাশি। 

বই রিভিউ করুন 

এই আইডিয়া সবাইকার জন্য নয়। তবে আপনি যদি বই পড়তে ভালবাসেন। তার পাশাপাশি বই পড়ার প্রতি আপনার যদি আগ্রহ থাকে। নতুন নতুন বই পড়ার প্রতি আপনার যদি আগ্রহ থাকে।

তাহলে এই পদ্ধতি অবলম্বন করে বুক রিভিউ (Book Review) ওয়েবসাইট বা ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন।

অনেক বুক লাভার রয়েছেন যারা কোনো বইয়ের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানতে চান। সেক্ষেত্রে আপনি তাদের কাজে লাগতে পারেন। 

নিঃসন্দেহে এই পদ্ধতিতে আপনার পড়াশোনার কোনো রকম ক্ষতি হবে না। তার পাশাপাশি আপনি আপনার বই পড়ার ইচ্ছা কেউ এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।

সবথেকে প্রয়োজনীয় যে বিষয়টা তা হল আপনার জ্ঞান অর্জন এবং অর্থ উপার্জন দুটোই সম্ভব হবে।  

বুক রিভিউ সাইট (Book Review Website) এর সাহায্যে অনেক পদ্ধতিতে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

সেক্ষেত্রে অ্যাফিলিয়েটও আপনাকে টাকা ইনকাম করতে সাহায্য করবে। 

অনলাইনে লেখা শুরু করুন 

আপনি যদি লিখতে ভালোবাসেন। আপনার যদি বিভিন্ন লেখার প্রতি আগ্রহ থাকে। তাহলে এক্ষুনি লেখা শুরু করে দিন।

তা আপনার নিজস্ব ওয়েবসাইটের মাধ্যমে যে জিনিসের প্রতি ভালো লাগা রয়েছে সেই জিনিস নিয়ে লিখতে পারেন।

বা অন্য কারোর হয়ে তার দেওয়া সাবজেক্টের উপর লিখতে পারেন। সেটা করার জন্য তার কাছ থেকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট এমাউন্টের পারিশ্রমিক চার্জ করতে পারবেন। 

অর্থাৎ সোজা কথায় একজন ফ্রিল্যান্স রাইটার হিসেবে আপনি রাইটিং এর কাজ করতে পারেন।

তবে ফ্রিল্যান্সিং জার্নি শুরু করার আগে অবশ্যই আমাদের শ্রেষ্ঠ ফ্রিল্যান্সিং গাইড দেখে নিতে ভুলবেন না।

এর ফলে ফ্রিল্যান্সিং সম্পর্কিত আপনার একটি স্বচ্ছ ধারণা তৈরি হয়ে যাবে। 

আপনার এই রাইটিং জব কে ধীরে ধীরে আপনি ওয়েবসাইট ও ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে আরও বেশি পরিমাণে ব্র্যান্ডেড করে তুলতে পারবেন।

এর ফলে আপনার কাজও বেড়ে যাবে। এভাবে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনি আপনার ইনকাম স্ট্রিমও তৈরি করে ফেলতে পারবেন। 

নিজের তোলা ফটো বিক্রি

আপনি কি ফটোগ্রাফি ভালোবাসেন? অনলাইনে আপনার ফটো বিক্রি (Sell your Photos Online) করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ফটোগ্রাফির প্রতি আপনার প্যাশন রয়েছে?

তাহলে আপনার তোলা ভালো কোয়ালিটির ফটো অনলাইনে নানান ওয়েবসাইটে বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। এই কাজের জন্য জনপ্রিয় কিছু ওয়েব সাইট রয়েছে।

আরও পড়ুন : ইনস্টাগ্রাম থেকে কিভাবে টাকা ইনকাম করবেন ? জেনেনিন বিস্তারিত ভাবে

তবে অবশ্যই এই করতে গিয়ে আপনার ফটোর কোয়ালিটি খুব ভালো হতে হবে। রীতিমত ভালো মানের ফটো যদি আপনি ক্যাপচার করার ক্ষমতা রাখেন তাহলেই এই পদ্ধতিতে আপনি সফল হতে পারবেন।

ভিডিও এডিটিং করে টাকা ইনকাম 

আপনার পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি আপনি কি ভিডিও এডিটিং(Video Editing) করতে ভালোবাসেন? ভিডিও এডিটিংয়ে আপনি যদি দক্ষ হন।

তাহলে অনলাইনে এখন আপনি ভিডিও এডিটিং করেও টাকা ইনকাম করতে পারবেন(video editing kore taka income)।

দিনের নির্দিষ্ট একটু সময় বার করে নিয়ে আপনি আপনার ক্লায়েন্টের পাঠানো ভিডিও এডিট করে দিতে পারবেন। আপনার দক্ষতার প্রয়োগ করে সেই ভিডিওকে আরও প্রফেশনাল লুক দিতে পারবেন।

ভিউয়ার্স দের কাছে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলতে পারবেন সেই ভিডিওকে। নিঃসন্দেহে এর ফলে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

এর জন্য বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট আপনি জয়েন করতে পারেন। যেখান থেকে আপনি ভিডিও এডিটিং জব খুঁজে পাবেন।

নিকটবর্তী কোন ভিডিও প্রোডাকশন হাউস থাকলে তাদের সাথে আলোচনা করুন।

সেখানে পার্ট টাইম জব হিসেবে জয়েন করতে পারেন। এর ফলে পড়াশোনার পাশাপাশি আপনি আর্নিং করতে পারবেন। আপনার এক্সপেরিয়েন্স বাড়বে।

ফিউচারে আপনার যদি এই বিষয়টি নিয়ে কিছু করতে চান তাহলে সেটাও সম্ভব হবে আপনার এক্সপেরিয়েন্স এর জন্যই।

লোগো ডিজাইন ( Logo Design)

আপনার যদি গ্রাফিক্সের প্রতি আগ্রহ থাকে। আপনি যদি গ্রাফিক্স নিয়ে নাড়াচাড়া করতে পছন্দ করেন। গ্রাফিক্যাল কাজকর্ম যদি আপনার ভাল লাগে।

তাহলে আপনি লোগো ডিজাইন করে অনেক টাকা ইনকাম (logo design kore taka income/ earn money by designing logo) করতে পারবেন। 

বর্তমানে লোগো ডিজাইন একটা লোভনীয় পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। দিনের-পর-দিন কোম্পানির পরিমাণ বেড়েই চলেছে। তার সাথে বেড়ে চলেছে তাদের অনলাইন উপস্থিতিও।

আর এই অনলাইন উপস্থিতিতে অত্যাধিক প্রয়োজন একটি ইউনিক লোগো। আপনার যদি লোগো তৈরিতে এক্সপিরিয়েন্স থাকে।

আপনি যদি লোগো তৈরি করতে ভালোবাসেন। তাহলে আপনি লোগো তৈরি করতে পারবেন। তা করে বল রকম ইনকাম করতে পারবেন। 

অনলাইন টিউশানের মাধ্যমে টাকা ইনকাম

বর্তমান সময়ে দিনের-পর-দিন অনলাইন টিউশন এর পরিমাণ ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। অনলাইন টিউশনিং এখন এক দারুণ পেশা হিসেবে পরিণতি পেতে চলেছে। 

আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হন। সে ক্ষেত্রে সেই বিষয়ে আপনি অনলাইনেও এখন প্রাইভেট টিউশন শুরু করতে পারবেন। এর ফলে সেই বিষয়ের প্রতি আপনার চর্চাও থাকবে।

তার সাথে স্টুডেন্ট পড়িয়ে আপনি অনেক টাকা ইনকাম করতেও পারবেন। তবে অবশ্যই শুধুমাত্র টাকা ইনকাম করব এই ভেবে টিউশন শুরু না করাই ভাল। পোড়ানোর প্রতি যদি আপনার প্যাশন থাকে।

তারই সাথে সেই বিষয়ে যদি আপনি দক্ষ হন তবেই আপনি এই পদ্ধতি অবলম্বন করুন।

‘না হলে আপনার শিক্ষার্থীর জীবন তো নষ্ট হবেই। তার সাথে আপনিও অসফল থেকে যাবেন আপনার উদ্দেশ্যে। 

ডাটা এন্ট্রি জবস করুন

কম্পিউটার নিয়ে নির্দিষ্ট কিছু কাজে আপনার যদি দক্ষতা থাকে। তাহলে আপনি খুব সহজে ডাটা এন্ট্রি জবস(Data Entry Jobs) করতে পারবেন।

আপনি যদি কম্পিউটার ব্যবহার করতে পারেন। তাহলে এই কাজগুলোর সাহায্যে খুব সহজেই আপনি টাকা ইনকাম করতে পারবেন। বেসিক লেভেলের কম্পিউটার জ্ঞান প্রয়োজন হয় এই কাজ করতে। 

এই কাজেতে নির্দিষ্ট কিছু তথ্য আপনাকে টাইপ করে এন্ট্রি করতে হয়। বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে কাজের ধরন বিশেষ রকমের হতে পারে।

তবে আপনার যদি কম্পিউটারে বেসিক নলেজ থাকে। তাহলে এই ডাটা এন্ট্রি অপারেটর হিসেবে আপনি স্টুডেন্ট থাকাকালীনও টাকা ইনকাম (earn money with data entry jobs) করতে পারবেন। 

আপনার আর্ট সেল করুন

আপনি যদি ছবি আঁকতে ভালোবাসেন। বা পেন্সিল স্কেচ করতে পারেন। অথবা হয়ত ওয়াটার কালারে আপনি দক্ষ।

অথবা খুব সুন্দর মূর্তি তৈরি করতে পারেন। অথবা যেকোনো ধরনের কুটির শিল্পে আপনি অত্যধিক রকমের দক্ষ।

তাহলে আপনার সেই আর্ট প্রোডাক্ট আপনি বিক্রি করে মোটা টাকা ইনকাম করতে (sale your art and earn money/ apnar art product toiri kore taka income)। 

দিনের পর দিন এই ধরনের টাকা ইনকামের পরিমাণ কমাতে বেড়েই চলেছে। ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য এই পদ্ধতি অবলম্বন করে টাকা ইনকাম করা এখন একটি সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।

যদিও আমাদের দেশে এই পদ্ধতির অত্যাধিক চল নেই। তবুও ধীরে ধীরে এর ট্রেন্ড বেড়েই চলেছে। 

তবে অবশ্যই ক্রমাগত এই পদ্ধতিতে কম্পিটিশনও বাড়ছে। তাই আপনি যে কাজে অত্যধিক রকমের পটু।

মনে করুন আপনি পেন্সিল স্কেচ করতে পারেন খুব সুন্দর। তাহলে অর্ডার নিয়ে পেন্সিল স্কেচ করেই আপনি মোটা টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এমন ভাবেই আপনি যদি খুব সুন্দর ভাবে ওয়াটার কালার বা অয়েল পেইন্টিং করতে পারেন। অথবা খুব সুন্দর যদি ডিজিটাল পেইন্টিং করতে পারেন।

তাহলে সেই ডিজিটাল পেইন্টিং বিক্রি করে আপনি মোটা টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

এটাই যেহেতু আপনার প্যাশন তাই পড়াশোনারও ক্ষতি হবে না আপনার। আপনি আনন্দ করেই এই কাজ করতে পারবেন। তারই সাথে আপনার টাকা ইনকামও সম্ভব। 

আপনার প্রোডাক্ট সেল করে টাকা ইনকাম 

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোনো প্রোডাক্ট তৈরি করতে পারেন। সেগুলো যেকোনো ডিজিটাল প্রোডাক্ট হতে হবে এমন কিছু নয়। তা হতে পারে আপনার হাতে তৈরি কোন জিনিস।

আপনি হয়তো খুব সুন্দর ইয়ার রিং তৈরি করতে পারেন। অথবা অসাধারণ সুন্দর পুতুল তৈরি করতে পারেন।

অথবা খুব সুন্দর ব্রেসলেট তৈরি করতে পারেন। যে ধরনের ব্রেসলেট বাজারে সচরাচর পাওয়া যায়না।

এমন ক্ষেত্রে আপনি খুব সহজেই এই উন্নত ধরনের প্রডাক্ট কে অনলাইনে সেল করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

তবে সেক্ষেত্রে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে প্রোডাক্টের কোয়ালিটি যেন খুবই ভালো হয় সেই দিকে। তার সাথে out-of-the-box চিন্তা-ভাবনা করতে হবে আপনাকে।

সবসময় প্রোডাক্টের গুণমান ও দাম সমস্ত কিছু আপনাকে ঠিকঠাক রাখতে হবে।

প্রয়োজনে আপনি আপনার ফেসবুক পেজ এর ব্যবহার করতে পারবেন। মার্কেটিং করতে পারবেন আপনার সেই প্রোডাক্ট। যার ফলে পড়াশোনা চালানোর পাশাপাশি আপনি টাকা ইনকাম করতেও পারবেন।

নোটস বিক্রি করে টাকা ইনকাম 

ডিজিটাল প্রোডাক্ট এর সাথে সাথে আমরা ফিজিক্যাল প্রোডাক্ট সেল করে টাকা ইনকামের বিষয় জানলাম।

এবার যারা অনলাইন টিউশান সরাসরি শুরু করতে চান না। বা হয়তো আনার অনলাইন টিউশন শুরু করার মতো ব্যবস্থাপনা নেই। তাদের জন্য এই ভাবে টাকা ইনকাম করা যেতে পারে।

আর সেই পদ্ধতি হল নোটস বিক্রি করে টাকা ইনকাম।

আপনি যদি কোন বিষয়ে দক্ষ হয়ে থাকেন। এবং সেই বিষয়ে আপনার যদি ভালো রকম নাম ডাক থাকে।

সে ক্ষেত্রে আপনি সেই বিষয় সম্বন্ধীয় আপনার তৈরি নোটস বিক্রি করে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

আপনি যদি অনলাইনে এই কাজটি করতে পারেন তাহলে আরও ব্রড মার্কেটে আপনি আপনার নোটস সেল করতে পারবেন। 

আপনার নোটসের গুণমান সম্পর্কিত অবহিত করার জন্য প্রথমে কিছু স্যাম্পল নোটস বিনামূল্যে ব্যবহার করতে দিতেও পারেন।

তারপর অ্যাডিশনাল এডভান্স নোটস পেতে চাইলে কিনতে হবে এমন ব্যবস্থাও নিয়ে আসতে পারবেন। 

সে ক্ষেত্রে সেই ইউনিক ও এডভান্স নোটস যদি কেউ কিনতে চান সেটা থেকেও আপনার টাকা ইনকাম হবে।

অনলাইন টিউশন এর সাথে সাথে আপনি যদি এই কাজটিও একসাথে করে নেন তাহলেও খুব ভাল রেজাল্ট পেতে পারেন।

সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার হিসাবে টাকা ইনকাম

বর্তমানে অনেক ব্র্যান্ডই সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজার খোঁজেন। যারা ব্র্যান্ডের হয়ে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজ করবেন।

আপনার যদি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে কোনো রকম আইডিয়া থাকে। অথবা আপনি যদি ফেসবুক পেজ, ইউটিউব চ্যানেল, টুইটার একাউন্ট বা ইনস্টাগ্রাম একাউন্ট সম্পর্কিত পূর্ববর্তী কোনরকম ভালো অভিজ্ঞতা থাকে।

তাহলে সেই অভিজ্ঞতার দৌলতে আপনি খুব সহজেই সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এর কাজ করতে পারবেন। 

যার ফলে আপনি আপনার পড়া চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশিও ভালো ইনকাম করতে পারবেন।

তবে অবশ্যই ভালোভাবে সফল হওয়ার জন্য ভালো রকম সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত জ্ঞান থাকা অবশ্যক।

আপনি যত ভালো রেজাল্ট দেখাতে পারবেন, যত ভালো এঙ্গেজমেন্ট নিয়ে আসতে পারবেন তাদের পোস্টে ততবেশি এই কাজ করে টাকা ইনকাম করা সম্ভব। 

প্রুফ রিডিং 

ভালো স্টুডেন্টদের মধ্যে টাকা ইনকাম করার অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম হল প্রুফরিডিং (earn money as a proof reader)। বই ফাইনাল প্রিন্টিংয়ে যাওয়ার আগেই বেশ কয়েকটি ধাপে সেই বইয়ের লেখা গুলিকে প্রুফ করা হয়।

তার মধ্যে কোনো ব্যাকরণগত বা বানান ভুল রয়েছে কিনা সেটা সংশোধন করা হয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে। 

তার মধ্যে কোনো রকম ভুল থাকলে সেগুলোকে ঠিক করে দেওয়া হয়। এই কাজটি কেই প্রুফ রিডিং বলে।

প্রুফ রিডিং শুরু করার আগে আপনাকে এই বিষয়ে সমস্ত কিছু শিখতে হয়।

আপনি যদি এই প্রুফ রিডিং করতে পারেন অথবা প্রুফ রিডিং সম্পর্কে আপনার যদি অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে নিকটবর্তী পাবলিশিং হাউসে গিয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

পাবলিশিং হাউসে অনেক কাজ থাকায় প্রুফ রিডিংয়ের অনেক চাহিদা থেকে যায়। এইভাবেই আপনি এই কাজটি শুরু করতে পারেন। 

মজার ভিডিও তৈরি করে টাকা ইনকাম 

আপনি যদি এক মজার মানুষ হন তাহলে নানারকম মজার ভিডিও তৈরি করে ফাইভার ওয়েবসাইটে আপনার গিগস তৈরি করতে পারবেন। কারোর জন্মদিনে আপনার নিজস্ব ভাষায় শুভেচ্ছা উইশ করে।

বা অদ্ভুত অঙ্গভঙ্গি করে জন্মদিন উইশ করে। অথবা এই ধরনের কিছু বিষয়ে গিগস করে আপনি Fiverr এর মত ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইট থেকেও অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

তবে এই বিষয়ে কাজ করতে গেলে আপনাকে ক্রিয়েটিভ হতে হবে। এই বিষয়ে ইনোভেটিভ চিন্তা ভাবনা করুন। করার পর সেগুলিকে Fiverr এর মত জনপ্রিয় ফ্রিল্যান্সিং ওয়েবসাইটে পোস্ট করুন।

কিছু সময়ের মধ্যেই আপনার গিগস হিট করে যাবে। এবং সেটা থেকে আপনি খুব সহজেই অনেক টাকা ইনকাম করতে পারবেন। 

এফিলিয়েট মার্কেটিং এর মাধ্যমে টাকা ইনকাম 

আপনার যদি ব্লগ বা ইউটিউব চ্যানেল থাকে। সেখানে যদি ভাল রকম রেসপন্স আপনি পান। অথবা আপনার যদি ফ্যান ফলোইং ভালো রকম তৈরি হয়ে যায়।

তাহলে আপনি এফিলিয়েট মার্কেটিং অবশ্যই প্রয়োগ করে দেখুন। বিশেষত এর সাহায্যে আপনি অন্যের কোন প্রোডাক্ট প্রমোট করবেন।

আপনার শেয়ার করার লিংক থেকে কেউ যদি সেই প্রোডাক্টটি কেনেন তাহলে আপনি সামান্য কিছু কমিশন পাবেন।

অথচ কাস্টমার কে কোনরকম বেশি টাকা পে করতে হবে না। নিঃসন্দেহে দারুন একটি সুবিধাজনক ব্যাপার এই আফিলিয়েট মারকেটিং।

আপনাকে কোন রকম টাকা ইনভেস্ট করতে হয় না এই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে। তা না করেই খুব ভাল ভাবেই আপনি এই কাজ করতে পারেন। 

আরও জানো : কীভাবে গুগল থেকে টাকা ইনকাম করবে ? সিক্রেট ট্রিক !

তাহলে ভালো রকম ইনকাম করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার যদি ইউটিউব চ্যানেল বা ব্লগ থাকে।

সেখানে যদি আপনি ভাল রেসপন্স পান তাহলে আফিলিয়েট মারকেটিং এবং আপনি সফল হতে পারবেন! 

Amazon ও Flipkart-এ প্রোডাক্ট সেল

আপনি যদি নির্দিষ্ট কোন প্রোডাক্ট এর প্রতি ইন্টারেস্ট থাকেন। তাহলে আপনি সেই প্রোডাক্টটি কিনে এনে সেটাকে আমাজন অথবা ফ্লিপকার্টে পুনরায় সেল করতে পারবেন। সেখানে সেল করা এখন খুবই সহজ।

একাউন্ট তৈরি করা অত্যন্ত সোজা। প্রথমে অল্প কিছু প্রোডাক্ট এনে এই ব্যবসা শুরু করতে পারেন আপনি। পরবর্তীকালে আয় বাড়ার সাথে সাথে প্রোডাক্ট বাড়াতে পারবেন। 

এইভাবেই পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েও পার্ট টাইম হিসেবে কাজ করে আপনি ভালো টাকা ইনকাম করতে পারবেন!

অবশ্যই এই সকল পদ্ধতি গুলো মেনে চলুন। আর স্টুডেন্ট অবস্থাতেই অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে শুরু করুন।

তবে একসাথেই আপনি সকল পদ্ধতি মানতে শুরু করবেন এমনটা সম্ভবপর হয় না। 

তাই সচেতন হয়ে বিবেচনা করুন। সঠিক ভাবনা চিন্তা করুন। যে বিষয়টা আপনার জন্য উপযুক্ত সেই বিষয়টাকেই বেছে নিন। সেই বিষয়ে কাজ শুরু করেদিন আজ থেকেই।

এই বিষয়ে যদি আরও বিস্তারিত জানতে চান জানিয়ে রাখি। আরও গাইডেন্স আসছে শীঘ্রই। যেগুলো আপনার অনেক কাজে দেবে।

তার সাথে আমাদের টেলিগ্রাম চ্যানেল জয়েন করতে পারেন। এরকমই সমস্ত লেটেস্ট গাইড সবার আগে সবার প্রথমে পেয়ে যাবেন সেখানে। 

আমাদের সমস্ত আপডেট সরাসরি পেতে TelegramFacebook , Twitter Instagram ও YouTube -এ তে আমাদের সঙ্গে থাকুন, শ্রেষ্ঠ থাকুন!

Click Here to Leave a Comment Below 0 comments

Leave a Reply:

error: Content is protected !!